online income bd,income,online help,how to be a filencer,

Sunday, October 30, 2016

যে ৭টি কারনে আপনার সন্তানকে ভিডিও গেইম খেলতে উৎসাহ দিবেন


যে ৭টি কারনে আপনার সন্তানকে ভিডিও গেইম খেলতে উৎসাহ দিবেন

ভিডিও গেমস আর অভিভাবক যেন একে অন্যের চিরশত্রু। গেমস খেলতে দেখলে বিরক্ত হন না এমন বাবা-মা বলতে গেলে আমাদের দেশে প্রায় নেই। এই গেমস খেলার ফলে সন্তানের লেখাপড়া খারাপ হয়, ঘুম হয় না, চোখে সমস্যা দেখা দেয় এরকম নানান অভিযোগ বাবা-মা রা করে থাকেন। কিন্তু আজ আমি আপনাদের ভিডিও খেলার ৭টি উপকারীতার কথা বলবো। এই ৭টি কারনের জন্য আপনার সন্তানকে এখন থেকে গেমস খেলতে নিষেধ নয় বরং আরো বেশি উৎসাত দিবেন আশা করি। সময় থাকলে আপনার সন্তানের সাথে আপনি নিজেও মাল্টিপ্লেয়ার মোডে গেইম খেলতে বসে পড়ুন !

১. জীবনে যেকোন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে সাহায্য করেঃ

আপনার সন্তান যদি ভিডিও গেমস বেশী খেলে তবে সে তার জীবনে চলার পথে বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো অন্যদের চেয়ে অনেক দ্রুত নিতে পারবে। এছাড়া তার সিদ্ধান্তগুলো সঠিক হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেননা গেইম খেলার সময় খুব অল্প সময়ের মাঝে কি করতে হবে তার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হলেই গেইম ওভার হয়ে যাবে। এজন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয় খুব দ্রুত কিন্তু সাবধানে। এভাবেই গেমাররা এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারটিতে পটু হয়ে ওঠে গেম খেলার চর্চা করতে করতেই।

২. দৃষ্টিশক্তি প্রখর করেঃ

এই পয়েন্টটি দেখে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন ! এতদিন জেনে এসেছেন ভিডিও গেইম খেললে চোখের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আপনার সন্তানকে বলে এসেছেন যে, "ভিডিও গেইম বেশি খেললে নষ্ট হয়ে যাবে। অন্ধ হয়ে যাবা। তখন অন্ধ ফকিরের মত রাস্তায় ভিক্ষা করতে হবে কিন্তু"। কিন্তু না, ভিডিও গেইম আসলেই দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।



Ontario's McMaster University এর  এক সাইকোলজি রিসার্চে বের হয়ে আসে এক আজব তথ্য। সাইকোলজিস্ট Dr. Daphen Maurer আবিষ্কার করেন যে, ফার্স্ট পারসন শ্যুটিং গেইমগুলো যারা খেলে তাদের দৃষ্টিশক্তি অন্যদের তুলনায় দ্বিগুন প্রখর হয়ে থাকে। 'মেডাল অফ অনর' বা 'কল অফ ডিউটি' এর মত ফার্স্ট পারসন শ্যুটিং গেইমগুলো খেলার ফলে আপনি বাস্তব জীবনে দুটি চোখ দিয়ে চারদিকে যেভাবে দেখেন সেভাবেই গেমের চরিত্র হিসেবে নিজেকে দেখবেন। তাই আপনার চোখ বাস্তব জীবনে যেভাবে দেখে সেভাবেই কাজ করবে। এই চর্চার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তি আরো প্রখর হয়ে উঠবে।

৩. চিন্তাশক্তি ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করেঃ

যেকোন গেইম খেলতেই চিন্তা করার প্রয়োজন হয়। একটি গেইম খেলার সময় প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ নিতে হয় চিন্তা করে। চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হলেই আপনি গেমে আর উপরের লেভেলে যেতে পারবেন না। ফলে আপনাকে বার বার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে আপনার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। একটি বড় কাজ কিভাবে অনেক কম সময়ে করা যায় তা শেখায় ভিডিও গেমস।

এছাড়া কিছু গেইম রয়েছে যা চিকিৎসকেরা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে রোগীদের খেলতে বলেন। গেইম খেলার ফলে আপনার চোখ ও হাতের মধ্যকার সামঞ্জস্য খুব ভালো হয়ে ওঠে। যেকোন কঠিন কাজ কিভাবে বিকল্প পথে সহজে ও কম সময়ে করা যায় তাও শিখিয়ে দেয় ভিডিও গেমস। রিসার্চে দেখা গেছে যারা ভিডিও গেইম খেলে তারা অন্যদের তুলনার যেকোন কাজ ২৭% দ্রুত করতে পারে এবং অন্যদের চেয়ে সেই কাজে ভুল হবার সম্ভাবনা ৩৭% পর্যন্ত কমে যায়।

৪. বিষন্নতা ও অন্যান্য মানসিক রোগ থেকে মুক্তি দেয়ঃ

যারা মাঝে মাঝেই বিষন্নতায় ভোগেন ভিডিও গেইম খেললে তাদের বিষন্ন ভাব কমে যায়। গেইম খেলার সময় আপনি যখন এক লেভেল থেকে অন্য লেভেলে যান তখন আপনার নিজের উপর আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। এভাবেই যারা হীনমন্যতায় ভোগে তাদের আত্নবিশ্বাস বাড়াতে ভিডিও গেইমের বিকল্প নেই।



এক গবেষনায় দেখা গেছে, যারা ভিডি গেইম খেলে তাদের মানসিক চাপ অন্যদের তুলনায় ১৮% কমে যায়। এছাড়া বিভিন্ন মানসিক রোগে চিকিৎসকেরা ভিডিও গেইম খেলতে বলেন।


৫. রোগ থেকে মুক্তিঃ

জটিল কিছু রোগ থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে এই ভিডিও গেইম। পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত রোগীদের গেইম খেলতে বলা হয়। এতে হাতের আঙ্গুলের ক্রিয়ার ফলে তাদের জড়তা কেটে যায়। নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির এক রিসার্চে বের হয়ে আসে 'Attention Deficit Disorder' এ যে সন্তানেরা ভোগে তাদের মনোযোগ বাড়াতে ভিডিও গেইম সাহায্য করে।

৬. ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে জানতে উৎসাহ দেয়ঃ

একেক ভিডিও গেইম একেক দেশের কাহিনীর উপর গড়ে ওঠে। এসব গেইম খেলার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের ইতিহাস ও ভৌগলিক অবস্থান, অন্য দেশের মানুষের জীবনযাত্রা এমনকি ভাষা পর্যন্ত শেখা যায় খেলতে খেলতে।



'Assassins Creed' সিরিজের গেমগুলো গেমারদের ইতিহাস সম্পর্কে এতই আগ্রহী করে তোলে যা অনেক ইতিহাস শিক্ষকও পারেন না। প্রিন্স অফ পার্সিয়া, কল অফ ডিউটি, এইজ অফ এম্পায়ারস এর মত গেইমগুলো ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে প্রচুর তথ্য দিয়ে থাকে।

৭. ব্যাথা থেকে মুক্তিঃ

যেকোন ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে ভিডিও গেইম সাহায্য করে। গেইম খেললে ব্যাথা থেকে মনোযোগ সরে যায়। আপনার মস্তিষ্ক তখন গেইমে মনোযোগ দেয়। ফলে ব্যাথা কম অনুভব হয়। আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে গেইম খেলার ফলে তাদের ব্যাথা ৫০% কমে গেছে। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের সাইকোলজিস্টরা একটি বিশেষ গেইম আবিষ্কার করেছেন যা খেলার ফলে রোগীদের যন্ত্রনা অনেকাংশে কমে যায়। এই গেইম এখন অনেক হাসাপাতালে রোগীদের খেলতে দেওয়া হয় প্রতিদিনের ওষুধের মতই। আপনার দাদী-নানীর বাতেঁর ব্যাথা থাকলে তাদের নিয়ে গেইম খেলতে বসে পড়তে পারেন !

অনেক ধন্যবাদ এত কষ্ট করে আমার লেখা পড়ার জন্য। এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে, আপনার সন্তানকে ভিডিও গেইম খেলতে মানা করতে থাকবেন নাকি আরো বেশি আগ্রহী করে তুলবেন?   







Share:

Unordered List

Theme Support